জাতীয়
৪ আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাকে ডিসি নিয়োগ, রয়েছে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চার কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ হাসিনার তৎকালীন কার্যালয়ের সাবেক উপপরিচালক ও বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সোলাইমানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফছানা বিলকিসকে মাদারীপুর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মনিরা হককে ফেনী এবং ফেনীর বর্তমান জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন ডিসিদের নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, এদের মধ্যে অনেকে অতীতে আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মোহাম্মদ সোলাইমান চাকরির শুরুতেই প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যানের সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ভূমি ও বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করার পাশাপাশি মাত্র ছয় মাস মাঠ প্রশাসনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপপরিচালক হন। বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপের আওতায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়ালেখা শেষে দেশে ফিরে শিল্প মন্ত্রণালয় ও পরে রাজউকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমান সরকারের পরিবর্তনের পর তাকে কর্মচারী হাসপাতালের একটি প্রকল্পে পাঠানো হলেও কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগে আবারও পদায়ন পান।
আফছানা বিলকিসের পদোন্নতি ও পদায়নের পেছনে সাবেক পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের ঘনিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে টানা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও জাতীয় সংসদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মনিরা হক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন শাখায় কাজ করেছেন। তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ফেনীর বিভিন্ন পর্যায়ে মাঠ প্রশাসন এবং পরিকল্পনা কমিশনে।
ফেনী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া সাইফুল ইসলামও আওয়ামী লীগের সময়েই দ্রুত পদোন্নতি পেয়েছেন। অতীতে অর্থ বিভাগ, বাগেরহাট ও মুন্সীগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেনীর ডিসি হিসেবে যোগদানের পর তিনি একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, পদায়নের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যারা অতীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এখনো প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন। এ সিন্ডিকেট অফিসার্স ক্লাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে পদায়নের ক্ষেত্রে তদবির ও প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
গত বছর ১১ সেপ্টেম্বরও নানা অভিযোগের ভিত্তিতে আট জেলার ডিসি পদে নিয়োগ বাতিল করতে হয়েছিল। সেসব কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন- লক্ষ্মীপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুর, দিনাজপুর ও রাজবাড়ীতে নিয়োগপ্রাপ্ত আটজন উপসচিব।
সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত