জাতীয়

ভূমিকম্প নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নির্দেশনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৮ পিএম

ভূমিকম্প নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদীতে গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ছোট কম্পন রেকর্ড হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

সংস্থাটি বলছে, ভূমিকম্পের সময় সঠিক নিয়ম মেনে চললে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। দেশবাসীর জন্য তারা এক জরুরি সতর্কবার্তা ও করণীয় নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

ভূমিকম্পের সময় ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নির্দেশনা

১. আতঙ্ক নয়—শান্ত থাকুন: ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে স্থির থাকুন। ভবনের নিচ তলায় থাকলে দ্রুত বের হয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।

২. বহুতল ভবনে Drop–Cover–Hold পদ্ধতি অনুসরণ করুন: নিচু হয়ে বসুন, শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন, টেবিল/খুঁটি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখুন, নিকটস্থ কলাম বা বিমের নিচে আশ্রয় নিন ও মাথা সুরক্ষার জন্য বালিশ, কুশন বা নরম বস্তু ব্যবহার করুন।

৩. লিফট ব্যবহার করবেন না: ভূমিকম্প চলাকালীন কখনোই লিফট ব্যবহার করবেন না। কম্পন থামার পর দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু থেকে দূরে থাকুন: বারান্দা, জানালা, বুকশেলফ, আলমারি, ঝুলন্ত ভারী বস্তু ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। টর্চ, হেলমেট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বাঁশি হাতের কাছে রাখুন।

৫. বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় যান: উঁচু ভবন, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিলবোর্ড বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো থেকে দূরে থাকুন।

৬. গাড়িতে থাকলে নিরাপদ জায়গায় থামুন: ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান। কম্পন থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই নিরাপদে থাকুন।

৭. পরবর্তী কম্পন হতে পারে-সতর্ক থাকুন : প্রথম ভূমিকম্পের পর আবারও আফটারশক হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ব্রিজ বা দুর্বল কাঠামো থেকে দূরে থাকুন। এগুলো পুনরায় ভেঙে পড়তে পারে।

৮. জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন ব্যবহার করুন: জরুরি অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন ১০২–এ যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের বার্তায় বলা হয়েছে, “আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও প্রস্তুতিই জীবন রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়। পরিবারসহ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী হিসেব করে সিদ্ধান্ত নিন।”