জাতীয়

হাসিনাকে ‘১০০ কোটি টাকা ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগে ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২০ এএম

হাসিনাকে ‘১০০ কোটি টাকা ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগে ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সকম গ্রুপের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা ও সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক এই প্রতিষ্ঠানটি। বড় বোনের বিরুদ্ধে ‘হত্যা, অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও অবৈধভাবে শেয়ার হস্তান্তর’-এর অভিযোগ এনে ২০২৪ সালে মামলা করেন ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক শাযরেহ হক। সেই বিরোধের পর এবার আরও গুরুতর একটি অভিযোগ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘১০০ কোটি টাকা ঘুষ’ দিয়েছেন-এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সংস্থার একজন উপপরিচালককে এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে দুদকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে ‘হত্যা, প্রতারণা, শেয়ার জালিয়াতি’সহ একাধিক মামলাকে ‘ধামাচাপা দিতে’ তিনি ঘুষ দিয়েছেন কিনা-সেটিই এখন অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ অনুসন্ধানের কাজ চলছে এবং আমরা বিভিন্ন দিক যাচাই করছি।” অনুসন্ধান প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত–২ শাখার পরিচালককে।

দুদকের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে কোনো ব্যাংক হিসাব জব্দ বা সম্পদ অবরুদ্ধ করার প্রয়োজন হলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। তবে এ অভিযোগ বিষয়ে সিমিন রহমান বা ট্রান্সকম গ্রুপের মিডিয়া ও লিগ্যাল বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পূর্বের মামলাগুলো ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রায় পৌঁছে যায় ২০২৪ সালের মার্চে, যখন ছোট বোন শাযরেহ হক বড় বোন সিমিন রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমান হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। গুলশান থানায় করা ওই মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৩ সালের ১৬ জুন গুলশানের বাসায় আরশাদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে অভিযোগগুলো ওঠে।

আগের তিনটি মামলায় শাযরেহ হক অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ আনেন মা, বোন ও ভাগ্নেসহ আটজনের বিরুদ্ধে। সেই সময় ট্রান্সকমের গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বহু নথি জব্দ করে পিবিআই।

লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর ২০২০ সালে গ্রুপের চেয়ারম্যান হন তার স্ত্রী শাহনাজ রহমান এবং সিইও হন বড় মেয়ে সিমিন রহমান। পরে ধীরে ধীরে পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে এবং তা এখন পর্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।

নতুন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় ট্রান্সকম গ্রুপকে ঘিরে বিতর্ক আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।