জাতীয়

প্রকাশ্যে ধূমপানে ২ হাজার টাকা জরিমানা, ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

প্রকাশ্যে ধূমপানে ২ হাজার টাকা জরিমানা, ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিতে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন পেয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে এ অধ্যাদেশ কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত আইনের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উদীয়মান ই-সিগারেট ও ভ্যাপসহ আধুনিক তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং বিদ্যমান বিধানগুলো আরও শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি একীভূত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন আইনে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এর আওতায় ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কোনো পণ্যকেও তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সব ধরনের পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই বিধান লঙ্ঘন করলে আগে যেখানে ৩০০ টাকা জরিমানা ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রয়স্থলে তামাক পণ্যের প্যাকেট প্রদর্শন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-সিগারেট, ভ্যাপসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো আসক্তিমূলক বা ক্ষতিকর দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো তামাকপণ্য বাজারজাত করা যাবে না।

নতুন অধ্যাদেশে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সরকার মনে করছে, সংশোধিত এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার হবে এবং তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।