জাতীয়
ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতদের ভারত থেকে নিয়ে আসাও সম্ভব: নৌপরিবহন উপদেষ্টা
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যদি প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকে, সেখান থেকেও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামে লঞ্চঘাটের নামকরণ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে একাধিক আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্তে নতুন নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ সামনে আসছে। সরকার এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি কোনো আসামি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে থাকে, প্রয়োজনে সেখান থেকেও তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, শুধু সরাসরি হত্যাকারী নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদেরও চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার প্রত্যাশা সবার।
ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তাদের জনগণের জন্য সৎ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় শহীদদের আত্মা আমাদের ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লঞ্চঘাটের নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির নামে এই লঞ্চঘাটটি স্থায়ীভাবে থাকবে—এটাই প্রত্যাশা। কারণ ওসমান হাদি এই অঞ্চলের সন্তান। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের যাতায়াত হওয়া এই স্থাপনাটি তার স্মৃতি বহন করবে। তিনি বলেন, হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছেও পরিচিত নাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হাবিব, শহীদ ওসমান হাদির ছোট বোন মাসুমা হাদি এবং ভগ্নিপতি আমির হোসেন হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।