জাতীয়

যে কারণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় জরুরি, জানালেন আলী রীয়াজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

যে কারণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় জরুরি, জানালেন আলী রীয়াজ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদের মূল উদ্দেশ্য ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা-এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বহু জাতিগোষ্ঠী, বহু ধর্ম ও বহু ভাষার রাষ্ট্র হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয় নয়; বরং ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি কিংবা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাষ্ট্র যেন কারও সঙ্গে বৈষম্য না করে-সেটাই এই সনদের মূল দর্শন।

তিনি বলেন, বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবেই থাকবে, তবে একই সঙ্গে দেশের নাগরিকদের ব্যবহৃত অন্যান্য মাতৃভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে। পাহাড়-সমতলের বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং সমতার ভিত্তিতে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণই সরকারের লক্ষ্য।

গত ৫৪ বছরে নাগরিক অধিকার, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এই ঘাটতি পূরণে সাংবিধানিক সংস্কার অপরিহার্য। সংখ্যালঘু বা নারী অধিকার আলাদা কোনো বিষয় নয়; মূল প্রশ্ন হলো নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।

গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন- একটি রাজনৈতিক প্রার্থীদের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে সমর্থন জানানো, যা নির্ধারিত চিহ্নে টিক দিয়ে প্রকাশ করতে হবে।

গণভোটকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারের কথাও উল্লেখ করেন আলী রীয়াজ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে নিহতদের ক্ষেত্রে কোনো ধর্ম, ভাষা বা অঞ্চলের বিভাজন করা হয়নি। সবাই সমানভাবে শহীদ হিসেবে স্বীকৃত। বিভক্তির রাজনীতি সমাজকে দুর্বল করে, আর সমতার রাজনীতি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেওয়া নয়, বরং দেশের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমেই জাতি সিদ্ধান্ত নেবে- দেশ কি বৈষম্যমূলক কাঠামো বজায় রাখবে, নাকি নাগরিক সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে এগোবে। এ দায়িত্ব পালনে তিনি জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।