জাতীয়

৪৪তম বিসিএস: নন-ক্যাডার প্রার্থীদের পাঁচ বছরের অপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে পিএসসি’র ভূমিকা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

৪৪তম বিসিএস: নন-ক্যাডার প্রার্থীদের পাঁচ বছরের অপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে পিএসসি’র ভূমিকা
ছবি: সংগৃহীত

৪৪তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার নন-ক্যাডার প্রার্থীরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একের পর এক ফলাফল প্রকাশিত হলেও এখনো নন-ক্যাডার নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। এরপর ২০২২ সালের ২৭ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রায় দেড় বছর পর শুরু হয় মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। প্রথম দফায় ভাইভা বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৮ মে থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। পরবর্তীতে একই ভাইভার দ্বিতীয় দফা গ্রহণ করা হয় ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত। বিসিএস ইতিহাসে একই পরীক্ষার ভাইভা দুই দফায় এত দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ করা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।

এরপরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে—

  • ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্রথম ফলাফল,

  • ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় ফলাফল এবং

  • ১১ নভেম্বর তৃতীয় ফলাফল প্রকাশ করা হলেও

নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।

নন-ক্যাডার নিয়োগ সংক্রান্ত প্রথম বিজ্ঞপ্তির আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়িয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয় ২২ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। কিন্তু আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার বহু মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নন-ক্যাডার প্রার্থীদের অভিযোগ, একই বিসিএস থেকে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্তরা অনেক আগেই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। অথচ নন-ক্যাডার প্রার্থীরা পাঁচ বছর ধরে শুধুমাত্র অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

একাধিক প্রার্থী জানান, “এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমাদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে, অন্য সরকারি ও বেসরকারি চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। মানসিক চাপের পাশাপাশি আমরা আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হচ্ছি।”

প্রার্থীদের আরও প্রশ্ন—

  • নন-ক্যাডার ফল প্রকাশে এত দীর্ঘ বিলম্বের কারণ কী?

  • আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে কি না?

  • এর পেছনে পিএসসি কিংবা অন্য কোনো মহলের প্রশাসনিক জটিলতা বা গোপন স্বার্থ কাজ করছে কি না?

নন-ক্যাডার প্রার্থীরা মনে করছেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএসসি’র দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া সেই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

প্রার্থীদের জোর দাবি, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো হোক।

এ বিষয়ে পিএসসি’র পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা না করা হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও ভাবছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা।