জাতীয়
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় সংসদ হবে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচনের বিধান যুক্ত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে গণভোটে অংশ নেন ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। বড় ব্যবধানে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে নিম্নকক্ষ এবং ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ নিয়ে। উচ্চকক্ষের সদস্যরা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রেও সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে। অভিশংসনের ক্ষেত্রেও উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। ক্ষমা প্রদানের আগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির সভাপতিও বিরোধী দলের মধ্য থেকে মনোনীত করার বিধান রাখা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য বিলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন সংসদ সদস্যরা।
নির্বাচিত সংসদ শপথ নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে, এরপর তারা নিয়মিত আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।