জাতীয়
তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিলেন বিএনপি দলীয় এমপিরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন-এর শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গেজেট প্রকাশিত মোট ২৯৬ জন সংসদ সদস্য আজ শপথ নেবেন। একসঙ্গে নির্ধারিত সংখ্যক এমপি শপথ নেওয়ায় শপথ অনুষ্ঠান একাধিক ধাপে সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানানো হয়েছিল, সংসদ সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেবেন। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির এমপিরা আজ ওই শপথ নাও নিতে পারেন।
প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইতিহাসসেরা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় দলটি। ২০০৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র শাসনামলের পর দীর্ঘ ২০ বছর পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূমিধস বিজয়ের প্রধান কারিগর তিনিই। এর আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের নেপথ্যেও তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
৩০০ আসনের সংসদে ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দুটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪) ফলাফল আদালতে বিচারাধীন থাকায় গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। এছাড়া জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন হয়নি। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসনেই নির্বাচিত হলেও সংবিধান অনুযায়ী একটি আসন রেখে বগুড়া-৬ আসনটি তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেই তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে বিদায়ী সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে সে দায়িত্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনার পালন করেন। বিদায়ী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় তারা এই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
শপথ শেষে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ সংসদীয় দলের বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে দলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করা হবে। বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে দলনেতা নির্বাচিত করা হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন।
আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা পাঠাবেন বলে জানা গেছে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি যানবাহন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রদান করবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ জন শপথ নিতে পারেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।