জাতীয়

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: স্বাস্থ্য সচিব


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: স্বাস্থ্য সচিব
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, রোগীদের ভোগান্তি কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বেগমগঞ্জ উপজেলার বেগমগঞ্জ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যসচিব বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চিকিৎসা সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলো মানুষের শেষ ভরসার জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে কোনোভাবেই দালালদের দৌরাত্ম্য বরদাশত করা হবে না।

তিনি জানান, অনেক সময় রোগীরা হাসপাতালে প্রবেশের আগেই অসাধু দালালদের কবলে পড়ে। তারা রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন। এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে ইতোমধ্যে হাসপাতাল এলাকায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসচিব আরও বলেন, হাসপাতালের ভেতরে কিংবা আশপাশে যারা দালাল হিসেবে কাজ করছে তাদের শনাক্ত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষ নজরদারি টিম গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রোগীদের জন্য তথ্যকেন্দ্র চালু করা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মোহাম্মদ কামারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কোনো হাসপাতালের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় মামলা করে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হতে পারে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ডা. মরিয়ম সিমি এবং ডা. হাসান খায়ের চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা।