জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ
দীর্ঘ ১৭ মাস পর আজ বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর নতুন এই সংসদের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি এবার সরকারি দলের আসনে বসছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় সংসদে অংশ নিচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রচলিত রেওয়াজের বাইরে ব্যতিক্রমীভাবে শুরু হবে এবারের অধিবেশন। শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত না থাকায় স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে। বিধি অনুযায়ী একজন প্রবীণ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে এবং তার অধীনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন এবং পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে। অপরদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া তাদের জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়ী হয়ে মোট ৭৭ জন এমপি নিয়ে সংসদে বসছে।
প্রথম অধিবেশন ঘিরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। বিএনপির সংসদীয় দল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হলেও জামায়াত এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত মত দেয়নি।
সংসদের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। এগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা থাকবেন। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি দল জানিয়েছে, অধিবেশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন। তবে বিরোধী দল এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
প্রথম দিনের অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম সমাপ্ত করা হতে পারে।
এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় অস্ত্র বহন ও সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতীয় সংসদ ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে দ্রুত সংস্কার ও মেরামত শেষে ভবনকে আবার অধিবেশন উপযোগী করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে দেশ আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে।