সারাদেশ

চট্টগ্রামে এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, যা জানাল পুলিশ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

চট্টগ্রামে এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, যা জানাল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক। বাইরে থেকে সাধারণ আবাসিক বাড়ি মনে হলেও সেখানে চলছিল সংঘবদ্ধ অনলাইন কার্যক্রম। পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি সামনে আসে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। প্রায় দেড় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে তারা সেখানে অবস্থান শুরু করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়। পাওয়া গেছে চারটি সিমকার্ড। পাশাপাশি পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়।

কেন এত ডিভাইস

অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসের সংখ্যা থেকেই বাড়িটিতে একটি সংগঠিত অনলাইন কার্যক্রমের উপস্থিতির ইঙ্গিত মিলছে। ৬৩ জনের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন এবং ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ এখন এসব ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখছে। অনলাইনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, কোন ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্‌ম ব্যবহার করা হয়েছে, অর্থ লেনদেনের কোনো তথ্য রয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগী কারা, এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাড়ি ভাড়া নেওয়া হলো কীভাবে

এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে একই বাড়ি ভাড়া নিয়ে দেড় মাস ধরে অবস্থান করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ির মালিক তাদের পরিচয় কীভাবে যাচাই করেছিলেন, ভাড়াটেদের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানতেন, এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিদেশিদের সঙ্গে দেশীয় সহযোগী

পুলিশ বলছে, এই কার্যক্রম শুধু ওই বাড়িতে অবস্থান করা ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশি ও বিদেশি কয়েকজন সহযোগীর তথ্য দিয়েছেন।

তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ, যোগাযোগ কিংবা অর্থ লেনদেনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রামেই কেন

চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের চলাচল এখানে তুলনামূলক বেশি। বিদেশিদের এই আনাগোনাকে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগিয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের ভিসার ধরন কী ছিল এবং চট্টগ্রামে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

বড় কোনো নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলবে কি

একটি বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিক, ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধারের ঘটনায় বড় ধরনের একটি সংঘবদ্ধ কার্যক্রমের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে দেশি ও বিদেশি আরও কেউ জড়িত কি না, তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির ভাড়া সংক্রান্ত নথি, বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য এবং তাদের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হবে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে ওই বাড়িতে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।