সারাদেশ
রাঙ্গাবালীতে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন রাঙ্গাবালীবাসী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গাবালীবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পটুয়াখালী জেলার সর্বশেষ উপজেলা রাঙ্গাবালী নদী ও সাগরবেষ্টিত একটি জনপদ। এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস হলেও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের নদীপথে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে বাউফল, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিতে হয়। এতে অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই যোদ্ধা ফাতিমা তাসনিম বলেন, রাঙ্গাবালীতে কার্যকর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রসবের সময় মায়েদের ট্রলারে করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীপথ পাড়ি দিয়ে বাউফল বা পটুয়াখালীতে নিতে হয়। এতে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তিনি বলেন, সাগরে কোনো জেলে দুর্ঘটনার শিকার হলে কিংবা কেউ সাপে কাটলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম, অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষার ল্যাব, অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যাম্বুলেন্স বোটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।
বক্তারা আরও বলেন, রাঙ্গাবালীর সঙ্গে কলাপাড়া, গলাচিপা ও পটুয়াখালীর সরাসরি পাকা সড়ক যোগাযোগ নেই। স্থানীয়দের নদী পারাপারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও ছোট লঞ্চের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
তাদের ভাষ্য, একটি উপজেলায় পর্যাপ্ত হাসপাতাল ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকলে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। রাঙ্গাবালীবাসী কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়, নিজেদের জীবন ও চিকিৎসার অধিকার আদায়ের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে নেমেছেন।
মানববন্ধন থেকে রাঙ্গাবালীতে দ্রুত ১০১ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং অপারেশন থিয়েটার চালুর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বোট চালু এবং উপজেলার সব ইউনিয়নে পাকা সড়ক, ব্রিজ ও নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি রাঙ্গাবালীর দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে মোহাম্মদ খোকন, এম এস লিকন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, নুরুল হুদা, মো. আনোয়ার, অ্যাডভোকেট সাহারুন হাওলাদার, ইমরোজ মাহমুদ রুদ্র, মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, মারুফ আলম, মাইনুদ্দিন সুমন, মোহাম্মদ সাগর, মো. রাসেল, রাজু মৃধা, মোহাম্মদ সাকনসহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।