জাতীয়
স্পিডবোটের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করলো সরকার
দেশজুড়ে স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নতুন ভাড়ার হার গত ১১ মে থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী শান্ত ও অশান্ত নৌরুট আলাদাভাবে বিবেচনা করে ভাড়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শান্ত নৌপথে প্রথম ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া হবে ১৫ টাকা। পরবর্তী ১০ কিলোমিটারের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা এবং এর বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ৮ টাকা ৬৪ পয়সা দিতে হবে।
অন্যদিকে অশান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ নৌরুটে ভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। এসব রুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১৭ টাকা এবং পরবর্তী ১০ কিলোমিটারে ১৫ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের নির্দিষ্ট ভাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরিচা ঘাট-কাজীরহাট রুটে ২৩৫ টাকা, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ১৩০ টাকা এবং বরিশাল-ভেদুরিয়া রুটে ৩২৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুটে ১৬০ টাকা, ভৈরব বাজার-নবীনগর রুটে ২৭০ টাকা, নরসিংদী-সলিমগঞ্জ রুটে ২৩৫ টাকা এবং গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটে ৩৮০ টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে।
রাঙামাটির কয়েকটি দুর্গম নৌরুটেও নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিশারি ঘাট থেকে মারিশ্যা রুটে ভাড়া ৮৬০ টাকা, মাইনি রুটে ৪৮৫ টাকা এবং বরকল রুটে ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপকূলীয় নৌপথের মধ্যে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে ২৬০ টাকা, কক্সবাজার ৬ নম্বর ঘাট-মহেশখালী রুটে ৯৫ টাকা এবং চেয়ারম্যানঘাট থেকে হাতিয়ার নলছিরা রুটে ৩২৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের আশা, নতুন ভাড়ার তালিকা কার্যকর হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং নৌপথে ভাড়া নিয়ে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসবে।