জাতীয়

আজ খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, যা যা দেখবেন দর্শনার্থীরা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ এএম

আজ খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, যা যা দেখবেন দর্শনার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

আজ (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রদর্শনীর মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বোধনের পরদিন দর্শনার্থীদের জন্য বরাদ্দ প্রথম দিনের ৯০০টি টিকিট বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিদিন তিনটি পৃথক সময়ে ৩০০ জন করে দর্শনার্থীর প্রবেশের সুযোগ থাকবে। টিকিট জাদুঘরের কাউন্টারের পাশাপাশি অনলাইনেও সংগ্রহ করা যাবে।

দর্শনার্থীরা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে টিকিটে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই প্রবেশ করতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। কোনো নির্ধারিত সময়ের টিকিট শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় নির্বাচন করতে হবে। দর্শনার্থীদের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য আপাতত সীমিত সংখ্যক প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব।

এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

তবে উদ্বোধনের দিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জাদুঘরের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় ফটক বন্ধ থাকায় একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জুলাইযোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অন্য দর্শনার্থীরাও সেখানে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জাদুঘরে যা যা দেখবেন

একসময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত গণভবন এখন রূপ নিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এ জাদুঘরে জুলাই আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা স্মারক ও নিদর্শন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পরই চোখে পড়বে লাল ইটের পথের দুই পাশে ফলজ গাছের সারি। পথের পাশেই রয়েছে ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শীর্ষক প্রদর্শনী, যেখানে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ জুলাই স্মৃতিসৌধ। সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত বৃত্তাকার স্মৃতিফলকে আন্দোলনে নিহতদের নাম উৎকীর্ণ করা হয়েছে। এর ভেতরের অংশ প্রতীকী কবরস্থানের আদলে নির্মিত। খোলা প্রাঙ্গণে রয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতীকী ভাস্কর্য, যার মধ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী, সাইকেলে মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুমের অভিযোগ এবং নারী আন্দোলনকারীদের স্মরণে নির্মিত শিল্পকর্ম উল্লেখযোগ্য।

জাদুঘরের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আলোচিত আয়নাঘর-এর আদলে একটি প্রতীকী কক্ষ, যেখানে গুমের অভিযোগে ব্যবহৃত বন্দিশালার পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে।

দোতলা ভবনের নিচতলায় রয়েছে আন্দোলনসংক্রান্ত নথি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও বিভিন্ন প্রামাণ্য উপকরণ। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককক্ষও সংরক্ষণ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় কক্ষটির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা অক্ষত রাখতে মেঝে বিশেষ কাচ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সেটি দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় তলায় স্থান পেয়েছে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত নানা উপকরণ। এখানে শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, বই, খাতা, খেলাধুলার সামগ্রীসহ ব্যক্তিগত স্মারক সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা পোশাক।

এ ছাড়া দিনভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপঞ্জি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, শিল্পকর্ম এবং বিশাল ডিজিটাল পর্দাজুড়ে আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে মিছিল, নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, সূচিকর্ম, পোস্টার ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।