জাতীয়
ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা হাটে নৌকায় ঘুরে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ঝালকাঠির ভীমরুলীর ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারার হাট ও পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। নদীর বুকে ভাসমান ব্যতিক্রমী এই বাজার, পেয়ারা বাগান ও স্থানীয় মানুষের কর্মব্যস্ততা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাটে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন। এ সময় ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ছোট নৌকায় চড়ে ভাসমান হাট ঘুরে দেখেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নৌকায় বসে পেয়ারা বেচাকেনার দৃশ্য উপভোগ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পেয়ারার স্বাদ নেওয়ার সঙ্গে চারপাশের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিও উপভোগ করেন তিনি।
স্থানীয়রা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, ভীমরুলীর বিভিন্ন পেয়ারা বাগান থেকে নৌপথে পেড়ে আনা পেয়ারা ভাসমান হাটে বিক্রি করা হয়। গাছ থেকে কীভাবে পেয়ারা সংগ্রহ করে নৌকায় করে বাজারে আনা হয়, সেই প্রক্রিয়াও কাছ থেকে দেখেন তিনি।
ভাসমান হাট ও পেয়ারা বাগান পরিদর্শন শেষে ট্রলারে করে পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানার উদ্দেশে রওনা হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তার সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন।
ভীমরুলীর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এমন অনন্য ভাসমান বাজারে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। নদীতে ঘুরে পেয়ারা বাজার দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে দারুণ ও আনন্দের ছিল। পেয়ারা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা, বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহের প্রক্রিয়া দেখা এবং স্থানীয় পেয়ারা খাওয়ার সুযোগ তার ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করেছে।
তিনি বলেন, তাকে বলা হয়েছিল এখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো ‘পেয়ারা খাবেন?’ ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজারে এসে তিনি বুঝতে পেরেছেন, কথাটি সত্যিই যথার্থ। এখানকার মানুষ, নদী ও পেয়ারা বাগানকে ঘিরে গড়ে ওঠা অনন্য পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে।
বরিশালের ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ধান, নদী, খাল এই তিনে বরিশাল’ কথাটি একেবারেই যথার্থ।