জাতীয়

আট মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ জন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

আট মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ জন
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে হত্যা, ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫৫ শিশুর।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ৬৮ শিশু, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনের ঘটনায় ৪৯ শিশু, ধর্ষণের পর ২৬ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ছাড়া গুলিতে তিন শিশু, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনের ঘটনায় দুই শিশু, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই শিশু এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাবনায় ১০ বছরের এক শিশু ৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশু ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি। দুই দিন পর সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর, রংপুর, মাদারীপুর ও সুনামগঞ্জে পৃথক ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাত শিশু নিহত হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নিখোঁজ ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৩৮ শিশু।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং শিশুবান্ধব সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউনিসেফ। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।