জাতীয়

মরিয়মের হাতের লেখায় ভিন্নতা, যা বলছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

মরিয়মের হাতের লেখায় ভিন্নতা, যা বলছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের লেখা দাবি করা কয়েকটি চিরকুট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। চিরকুটগুলোর হাতের লেখায় ভিন্নতা থাকায় এগুলো আদৌ মরিয়মের লেখা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর চিরকুটগুলোর প্রাথমিক হস্তাক্ষর বিশ্লেষণ শেষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সাইন্সেসের পরিচালক ও ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী মো. মিরাজ হোসেন তার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, পুলিশ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিগুলোর মধ্যে একটি চিঠিতে চলতি বছরের ১২ জুলাইয়ের তারিখ রয়েছে। লাল ও কালো কালিতে লেখা চিঠিগুলো পর্যালোচনা করে তিনি হাতের লেখায় দুই ধরনের ধরন বা ভিন্নতা দেখতে পেয়েছেন।

মিরাজ হোসেন বলেন, একটি চিঠির ওপরে চলতি বছরের ১২ জুলাইয়ের তারিখ রয়েছে। জুলাইয়ের ওই লেখা এবং পরবর্তী সময়ের লেখার মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

তার ভাষ্য, লাল ও কালো কালির লেখাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাতের লেখার ধরন দুই রকম। এমন পরিবর্তন লেখকের ব্যক্তিত্ব বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তিনি বলেন, জুলাই মাসের লেখাগুলো তুলনামূলক সোজা ছিল। সেখানে কিছু কাটাকাটি ও ওপর দিয়ে আবার লেখার প্রবণতা দেখা গেছে। তার মতে, এ ধরনের লেখার ধরন থেকে বিরক্তি বা অস্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে, কালো কালিতে লেখা একটি চিরকুটে দীর্ঘ দাগ টানার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী’ লেখা চিরকুটে এ ধরনের দাগ রয়েছে। মিরাজ হোসেনের মতে, এ ধরনের লেখার ধরন লেখার সময় লেখক আবেগপ্রবণ অবস্থায় ছিলেন, এমন ইঙ্গিত দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লেখার শেষের দিকে অক্ষর কিছুটা বড় হওয়ার বিষয়টি সঙ্গীর প্রতি বেশি প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিতে পারে। পাশাপাশি ‘সম্মান করে’ শব্দগুলোর পর অতিরিক্ত মাত্রায় লেখার বিষয়টিও তার নজরে এসেছে।

মিরাজ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বৈশিষ্ট্য আত্মহত্যার আগে একজন মানুষের সম্ভাব্য মানসিক অবস্থার সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে মরিয়মের আগের সময়ের হাতের লেখা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

লাল ও কালো কালির লেখার মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত হতে তার আগের হাতের লেখার নমুনা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে অন্য কারও লেখা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তার কাছে মনে হয়েছে।

কালো কালির লেখার ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি আরও বলেন, সেখানে লেখাগুলোর ওপরের অংশে সংযোগ দেখা যায়। তার মতে, এটি লেখকের সে সময়কার সুরক্ষামূলক ও যত্নশীল মানসিকতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এ ছাড়া কালো কালির লেখায় বাম পাশের প্রান্তের দিকেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। প্রতিটি লাইন একেক জায়গা থেকে শুরু হয়েছে। মিরাজ হোসেনের মতে, এর মাধ্যমে লেখকের অগোছালো অবস্থার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিপরীতে লাল কালির লেখার সময় তুলনামূলকভাবে বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ লেখার ধরন দেখা গেছে।

সবশেষে মিরাজ হোসেন বলেন, লাল ও কালো কালির লেখায় যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা একজন মানুষের হাতের লেখায় এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে মরিয়মের আগের হাতের লেখার সঙ্গে চিরকুটগুলোর লেখা মিলিয়ে দেখা জরুরি।