জাতীয়
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নতিতে তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (তারিখ উল্লেখ থাকলে যোগ করুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশ অবারিত সম্ভাবনার একটি দেশ। এ দেশের রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ, মেধাবী তরুণ প্রজন্ম, উর্বর ভূমি, খনিজ সম্পদ এবং বিশাল সমুদ্রসম্পদ। এসব সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি। তাদের মেধা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সফল ও উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবজীবনের দক্ষতা অর্জন এবং দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
কর্মজীবনে ‘জব স্যাটিসফ্যাকশন’ বা চাকরিতে সন্তুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্টি ও আন্তরিকতা না থাকলে ব্যক্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। তাই ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যে পেশাতেই যুক্ত হোক না কেন, সেখানে আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সন্তুষ্টির সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও সফল ভবিষ্যৎ গঠনে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারেন। তারা নতুন প্রজন্মকে ক্যারিয়ার ও কর্মজীবন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অ্যালামনাই, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে তরুণদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশ গঠনে নিজেদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।