জাতীয়

পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে জানানো হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ-এর ২১টি এবং ক্যাটাগরি-বি-এর ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের তথ্য ডব্লিউটিওকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ক্যাটাগরি-সি-এর ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাতটি পদক্ষেপ ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ কারণে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় অবশিষ্ট কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করেছে। বর্তমানে এ ব্যবস্থার সঙ্গে ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে। আরও ১৮টি সরকারি দপ্তর ও সংস্থাকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সভায় এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক জানান, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এআরএমএস) আগামী অক্টোবরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে কম ঝুঁকিপূর্ণ চালান দ্রুত শনাক্ত ও খালাস করার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় সময় কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও কমতে পারে।

তিনি আরও জানান, অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নির্ভরযোগ্য ও কম ঝুঁকির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাস্টমস সেবার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগেই খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করার সুবিধা এবং অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্টও চালু রয়েছে।

সভায় পচনশীল কৃষিপণ্য রপ্তানির অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে মোংলায় ১৮ একর জমিতে কোল্ড স্টোরেজ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের জন্য চুক্তি হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট এলাকায় রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের জন্য প্যাকিং হাউস ও কোল্ড চেইন সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো উন্নত হলে পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়বে বলে সভায় আলোচনা করা হয়।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় থাকা সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা ও অংশীজনের সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রবণতা কমাতে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা, পরীক্ষাগার সুবিধা সম্প্রসারণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।