জাতীয়
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অডিওটি কীভাবে ছড়িয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে। একই সঙ্গে অডিওটির বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয় এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য শোনা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
তবে রাকিবুল হাসান অডিওটির বক্তব্য নিজের নয় বলে দাবি করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। ফলে অডিওটির সত্যতা ও উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে তদন্তের অংশ হিসেবে এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তে অডিওটির উৎস, এর প্রচার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আদালত রিমান্ডের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।