জাতীয়

জামায়াত রাজনীতির উপযোগী দল নয়, দাবি রাশেদ খাঁনের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

জামায়াত রাজনীতির উপযোগী দল নয়, দাবি রাশেদ খাঁনের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘হঠকারী’ ও ‘সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা’ রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে দলটির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান বাংলাদেশে রাজনীতি করার উপযোগী দল হিসেবে জামায়াতকে বিবেচনা করা যায় না।

বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক পরিচিতি সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সিদ্ধান্তহীনতায়’ ভুগেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও জামায়াত জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবে, নাকি পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে থাকবে—এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, পরবর্তী সময়েও দলটির রাজনৈতিক অবস্থানে একই ধরনের অস্পষ্টতা দেখা গেছে।

১৯৮৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক সমঝোতার ফলে তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের ক্ষমতা টিকে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আন্দোলনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের মতে, এসব ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচন ও যৌথ জাতীয় সনদ নিয়ে জামায়াতের অবস্থানেও তিনি সিদ্ধান্তহীনতা দেখতে পাচ্ছেন। রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে দলটির নেতারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং একই বিষয়ে তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে।

জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, তাঁর মতে, দলটির বর্তমান রাজনীতি দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিবর্তে ‘ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার পথ’ তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত মাঠে সক্রিয় হওয়ার পর আওয়ামী লীগও আবার মাঠে সক্রিয় হয়েছে এবং বিষয়টি কেবল কাকতালীয় নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের বিষয়ে জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য তুলনামূলকভাবে নীরব এবং এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকতে পারে।

রাশেদ খাঁন ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ আবারও তুলে ধরে বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আন্দোলনকে তিনি বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেন। একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বর্তমানে তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের মধ্যে যে ধরনের সাদৃশ্য তিনি দেখতে পাচ্ছেন, সেটিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি দেশের জনগণও লক্ষ্য করছে।

তবে রাশেদ খাঁনের বক্তব্যগুলো তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও দাবি। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখানে উপস্থাপন করা হয়নি।