জাতীয়
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুলের ৫ দিনের রিমান্ড
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার রাকিবুল হাসানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার আদালত সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রাকিবুল হাসান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে তাকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তিনি কথা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অডিওতে পুলিশের বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এর পরদিন, ১৭ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তাকে রাজধানীর রাজারবাগে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করে পুলিশ। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে মামলার অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তবে মামলায় করা অভিযোগ ও অডিওতে থাকা বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।