জাতীয়
রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, বাদ যাবে না কেউ: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সরকারের এই কর্মসূচির আওতা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। এমনকি রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সময়ের মধ্যে কৃষকদের কাছেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের কিছু এলাকায় কৃত্রিমভাবে সারের সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি’ করে নির্বাচিত হয়েছে, সেসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সারসংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরের দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অহেতুক এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তেলের সংকটের মধ্যে লং মার্চ কর্মসূচি কীভাবে আয়োজন করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
লং মার্চের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লং মার্চ করলেই যদি কোনো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, তাহলে বিএনপি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত লং মার্চ করত।
একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে মসজিদ, মাদ্রাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের বিষয়ে তারা যথাযথভাবে চিন্তা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে তারেক রহমান চিন্তা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন শাহে আলম।
বর্তমান সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগকে সমর্থন না করে একটি মহল দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে কোনো ধরনের অপতৎপরতাই সফল হবে না এবং সরকার তার নিজস্ব গতিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, শহীদ আবু সাঈদের কবর ও বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও স্থানটির সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।