জাতীয়
বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা
বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এ ধরনের প্রচেষ্টা চলে আসছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নাম জড়ানোর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের পরিচিতি তৈরির চেষ্টা রয়েছে। তবে এর সঙ্গে বর্তমান সরকার বা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত নয়, এমন দাবি তিনি করছেন না। তার ভাষ্য, বিষয়টি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির অংশ এবং এই প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই চলছে।
অনলাইন নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। এ ঘটনায় সালমানের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তবে ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি ও বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, পরবর্তী সময়ে সালমান তার বক্তব্যের কিছু অংশ সংশোধন করেছেন বলে জানান তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা তার ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি কোনো ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিলে তার সামাজিক প্রভাবও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সালমান পরবর্তী সময়ে তার কাছে সরাসরি চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য সংশোধন করেছেন। ফলে প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে যেসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রচার হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তার দাবি, সালমানের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও পরবর্তী তথ্য সামনে আসার পর সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের বক্তব্য বা অবস্থান সংশোধন করেননি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতেই পারেন। তবে পরে সেই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে নিজের অবস্থান সংশোধন করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।
তিনি আরও বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। সেজন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই।
সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তার বক্তব্য, কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা তার ওপর হামলা হলে তা ঠেকানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় সরকার বিব্রত ও দুঃখিত হবে।
হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানান তিনি। তদন্তে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাই তদন্তের শেষ নয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।