জাতীয়
জামায়াতের চার এমপির অভিযোগে বিপাকে বিমানের দুই কর্মকর্তা, কী ঘটেছিল
ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সংসদ সদস্য। তাদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে ওমরাহ যাত্রীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে অবতরণের তিন ঘণ্টা পরও অধিকাংশ যাত্রী তাদের ট্যাগযুক্ত জমজমের পানির লাগেজ বুঝে পাননি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩৪ জন সংসদ সদস্যও ছিলেন।
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন জামায়াতের চার সংসদ সদস্য। তারা হলেন, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আইউবী এবং খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।
অভিযোগে যাত্রীদের হয়রানি, যথাযথভাবে লাগেজ বুঝিয়ে না দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয় তুলে ধরেন তারা।
এ ঘটনায় বিমানের ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান এবং ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মহিউদ্দিন আহমেদ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিমান কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে কন্টেইনার নামানো এবং পরিচালনাগত গাফিলতির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে নির্ধারিত সময়ে জমজমের পানি পৌঁছাতে দেরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজস্ব সংরক্ষিত মজুত থেকে ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি বিতরণের উদ্যোগ নেয়। পরে অন্য কন্টেইনারটি শনাক্ত করে যাত্রীদের মধ্যে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, যাত্রীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অভ্যন্তরীণ তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।