জাতীয়

আইনজীবীদের মর্যাদা বাড়াতে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি: আইনমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

আইনজীবীদের মর্যাদা বাড়াতে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বিচারব্যবস্থায় কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে আইনের জ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী মেধাবী, দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন আইনজীবী গড়ে তুলতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইন পেশায় সফল হতে হলে আইনের জ্ঞানের পাশাপাশি অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘AGO–UNDP Internship Programme’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনভোকেশন ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা মেধাবী তরুণদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর অন্তত ১০০ জন ইন্টার্নকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসাবে পাঁচ বছরে মোট ৫০০ জন তরুণ আইনজীবী ও আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী এ সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আদালত ও আইন পেশার বাস্তব অভিজ্ঞতা একজন তরুণ আইনজীবীর দক্ষতা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করছেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে সহায়তা করবে।

আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আইনজীবীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের কার্যকর রাখতে বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা অর্জনের পাশাপাশি আইনজীবীদের নিজস্ব বিচার-বিশ্লেষণ, যুক্তি উপস্থাপন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

আইন প্রণয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং সাইবার আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে চলমান কাজের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব আইনের খসড়া প্রণয়ন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তরুণ আইনজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আইন সংস্কারের প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি দেশের বিচার ও আইনব্যবস্থাও উপকৃত হবে।

আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অসংগতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলো দূর করতে আইনজীবীদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজের সমস্যা সমাধান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখার কারণেই আইনজীবীদের সমাজের প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু আইনি জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, সেই জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার সমন্বয় অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মক্কেলের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভ কিংবা বিচারপ্রক্রিয়াকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা আইন পেশার মর্যাদার পরিপন্থী। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনজীবীদের সততা ও নৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

আইনমন্ত্রী আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের আইনি অধিকার রক্ষায় আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতি গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদান রাখতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন আইনজীবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলির সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস, বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী, ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়াইগার এবং অ্যানালিস্ট জিনবো চোইসহ অন্যরা।