রাজনীতি

দেশে গণতন্ত্রবিরোধীরা আবার জোট পাকাচ্ছে: মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৬:০১ পিএম

দেশে গণতন্ত্রবিরোধীরা আবার জোট পাকাচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে বিদায় নিতে হয়েছে। এতে করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার একটা ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—সেই সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে ফের গণতন্ত্রবিরোধীরা জোট বাঁধতে শুরু করেছে।”

শনিবার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা জনগণের অধিকার, শোষণহীন সমাজ, বা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বিশ্বাস করে না, তারা আবারও গোপনে সংগঠিত হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য—ক্ষমতা ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা।”

নির্বাচন বিলম্ব না করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রতিদিন দেরি হচ্ছে আর রাজনৈতিক চক্রান্তকারীরা আরও সুসংগঠিত হচ্ছে। তাই সংস্কার, নির্বাচন ও সনদ—এই তিন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে দেশ আবার গভীর অনিশ্চয়তায় পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ মবোক্রেসি, গুম, খুন, ছিনতাই—সবই বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের সামনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ হারালে বাংলাদেশ আরও অনেক বছর পিছিয়ে যাবে। তখন আবার অভ্যুত্থান, আবার প্রাণহানি—এই চক্রেই পড়ে থাকবে দেশ।”

গণতন্ত্র নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের চূড়ান্ত আত্মপরিচয়ের সূচনা। সেখানে কোনো আপোস নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেও কোনো আপোস নেই। আলোচনা ও সহনশীলতার ভিত্তিতেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”

আলোচনায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “গোপালগঞ্জের হামলা, মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড—সবই একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকার অস্থিতিশীলতা দেখিয়ে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ই আমাদের জাতীয় উত্তরণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি বাদ গেলে বাকিগুলোও ভেঙে পড়বে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক শেখ শহিদুল ইসলাম বাবলু। সঞ্চালনায় ছিলেন আবু ইউসুফ সেলিম। আলোচনায় আরও অংশ নেন মোস্তফা জামাল হায়দার (জাতীয় পার্টি—কাজী জাফর), হাসনাত কাইয়ুম (রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন), তানিয়া রব (জেএসডি), মজিবুর রহমান মঞ্জু (এবি পার্টি), নুরুল হক নূর (গণঅধিকার পরিষদ), শহীদুল্লাহ কায়সার (নাগরিক ঐক্য), আখতার হোসেন (জাতীয় নাগরিক পার্টি), এম মিজানুর রহমান (গণফোরাম), আবুল হাসান রুবেল (গণসংহতি আন্দোলন) এবং নাজমুল হক প্রধান (বাংলাদেশ জাসদ) প্রমুখ।