রাজনীতি
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে সভাপতি পদে আলোচনায় সালেহ মোহাম্মদ আদনান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে দলটির ভেতরে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকা নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। পদপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ অবস্থান জানান দিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত দুই বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ চলতি বছরের ১ মার্চ শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, যে কোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করেও তিনি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম তদারকি করে আসছেন। তবে এবারের নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়ায় তিনি সরাসরি নজরদারি করছেন বলেও জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দলের কার্যালয়ে তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।
নতুন কমিটির শীর্ষ দুই পদ—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ছাত্রনেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। এই দৌড়ে রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিপ্লবে সম্মুখ সারির অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিচারে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো. আদনান। অতীতে তিনি মুজিব হল ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন।
৫ আগস্টের বিপ্লব ও রাজপথের সংগ্রাম:
সালেহ মো. আদনান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্ট চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচিতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন।
এর আগেও রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। ২০১২ সালে বিরোধী দলীয় আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন আদনান। দীর্ঘ সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। ২০১৮ সালের আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী প্রতিটি কর্মসূচিতেও তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শিক্ষাগত ও পারিবারিক ঐতিহ্য:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (অনার্স) সম্পন্ন করেন সালেহ মো. আদনান। তার পরিবারও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার পিতা আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা এ জেড এম সালেহ ফারুক বরগুনা জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তার মা এবং ভাই-বোনেরাও দলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের লক্ষ্য ব্যক্ত করে সালেহ মো. আদনান বলেন, “দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলকে একটি মেধাভিত্তিক ও সাহসী সংগঠনে রূপান্তর করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। ৫ আগস্টের বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করব এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের আদর্শ অটুট রাখতে কাজ করে যাব।”
দলের দুর্দিনের কর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান থাকায় আদনানকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ কর্মীরা। তারা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদনানের মতো ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ছাত্রদলকে আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম হবে।