রাজনীতি

সংস্কার নাই, গ্যাস-বিদ্যুৎও নাই, পেটে ভাতও নাই: আসিফ মাহমুদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

সংস্কার নাই, গ্যাস-বিদ্যুৎও নাই, পেটে ভাতও নাই: আসিফ মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, নির্বাচনের পর সব ঠিক হয়ে যাবে এবং ক্ষমতায় গেলে মানুষের পেটে ভাত থাকবে এমন প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছে দেশের মানুষ। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পাঁচ-ছয় মাস পার হলেও সংস্কার তো হয়নি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও মানুষের খাবারের নিশ্চয়তাও নেই।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের’ দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে পরিবার কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পেটে ভাত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই আর সহজলভ্য নেই।

চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই চাঁদাবাজির নানা কৌশলের কথা শোনা যাচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় জমিতে গরু-মহিষ চরাতেও ছাত্রদলকে চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে খবর এসেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় গেলে বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলেছিলেন। অথচ এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চাঁদাবাজির মাধ্যমে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, চাঁদাবাজির মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের পরিবার চলছে, তাদের পেট ভরছে; অথচ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে তা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নির্বাচন হবে না। তার দাবি, সরকারি দলের ২১৩ জন সংসদ সদস্য দলের নির্ধারিত প্রার্থীর বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। কেউ ভিন্ন প্রার্থীকে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, প্রায় ছয় মাস ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা শোনা গেলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। জেলা পরিষদগুলোর অধিকাংশ জায়গাতেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও গণতন্ত্রের কথা বলে রাজনীতি করলেও সরকারি অর্থে সিটি করপোরেশনের লোগোর পাশাপাশি বিএনপির দলীয় প্রতীক ও নেতাদের ছবি ব্যবহার করে পোস্টার লাগানো হচ্ছে। সরকারি অর্থে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো গণতন্ত্রের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসকদের অংশগ্রহণ নিয়েও আপত্তি জানান এনসিপির মুখপাত্র। তার দাবি, যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে চান বলে নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতারাও বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকার দিয়ে দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।