রাজনীতি

অংশীজনের স্বীকৃতি ছাড়া জুলাই ঘোষণাপত্র প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম

অংশীজনের স্বীকৃতি ছাড়া জুলাই ঘোষণাপত্র প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই ঘোষণাপত্রে অংশগ্রহণকারী শক্তিগুলোর স্বীকৃতি ও পরামর্শ ছাড়াই একতরফাভাবে সময় ও তারিখ নির্ধারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটি বলেছে, অংশীজনদের উপেক্ষা করে রচিত ঘোষণাপত্রকে তারা প্রত্যাখ্যান করবে। 

রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল রাজি কমপ্লেক্সে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এই অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তিনি বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা প্রথা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ৩০ শতাংশ কোটা ফিরিয়ে আনার পটভূমিতে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবি ওঠে। এর জেরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী নতুন আন্দোলন গড়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলনের একপর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা শুরু করলে এটি কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের বিপুল অংশগ্রহণে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই অভ্যুত্থান কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়, বরং বিগত ১৪-১৫ বছরের সংগ্রামের ফসল। কিন্তু কেউ কেউ এই আন্দোলনকে শুধু ৩৬ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছেন, যা ইতিহাস বিকৃতির শামিল।”

রাশেদ খান বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রে কেবলমাত্র সাম্প্রতিক ৩৬ দিনের প্রেক্ষাপট নয়, বরং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনসহ বিগত দেড় দশকের ছাত্র ও যুবসমাজের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতিফলন থাকা উচিত। তবে আমরা লক্ষ্য করছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঘোষণাপত্রের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে ফেলা হয়েছে, অথচ যারা এই আন্দোলনের প্রাণ ছিলেন, সেই অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।”

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “এই ঘোষণাপত্র যদি কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীকে খুশি করতে একতরফাভাবে তৈরি করা হয়, তাহলে তা হবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মতো একপাক্ষিক ও কুক্ষিগত করার চেষ্টা। যা ‘জুলাই চেতনা’র সম্পূর্ণ পরিপন্থি। আমরা বলি—জুলাই কারও একার নয়, এটা আমাদের সবার। অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান না দিলে আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র প্রত্যাখ্যান করব।”

গণঅধিকার পরিষদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জুলাই চেতনার বহুপক্ষীয় স্বর ও যৌথ ইতিহাসের দাবি আরও জোরালো হলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।