সারাদেশ
আবারও খুলে দেয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের সব কটি জলকপাট
টানা ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের সবকটি (১৬টি) জলকপাট। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে প্রতিটি গেট সাড়ে ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়, ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬৩ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০৯ ফুট মিনস সি লেভেল (এমএসএল)। বুধবার সকাল ৮টায় হ্রদের পানি ছিল ১০৮ দশমিক ৯০ ফুট এমএসএল— যা বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে পানি বাড়তে থাকায় বাধ্য হয়ে আবারও ১৬টি গেট সাড়ে ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। যদি পানি আরও বাড়ে, তাহলে গেট খোলার পরিমাণও সমন্বয় করা হবে।”
বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২২০ থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
এর আগে ৫ আগস্ট থেকে হ্রদে পানির চাপ বাড়তে থাকায় ধাপে ধাপে গেট খুলে দেওয়া হয়। প্রথমে ৬ ইঞ্চি করে গেট খোলা হয়, পরে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হয় ৭ আগস্ট। এরপর ৭ দিন খোলা থাকার পর ১২ আগস্ট সব গেট বন্ধ করা হয়।
তবে বৃষ্টিপাত না কমায় এবং পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় আবারও হ্রদে পানির চাপ বাড়তে শুরু করে। ফলে ২০ আগস্ট পুনরায় গেট খুলতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
জলকপাট খুলে দেওয়ায় কর্ণফুলী নদীর পানি বাড়ছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আরও জানান, “স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হবে কিনা, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে হ্রদের পানির উচ্চতার ওপর।”