সারাদেশ

মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে রাঙামাটিতে চলছে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল 


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৫ পিএম

মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে রাঙামাটিতে চলছে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল 
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে শিক্ষক নিয়োগে কোটা নয়, মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে ঘোষিত ৩৬ ঘণ্টার হরতাল চলছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

হরতালের প্রথম দিন সকাল থেকেই রাঙামাটি শহরের বনরূপা, তবলছড়ি, দোয়েল চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেন। এতে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সপ্তাহের ছুটিকে কেন্দ্র করে সাধারণত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাঙামাটিতে পর্যটকের ভিড় দেখা যায়-কিন্তু চলমান হরতালে শহরে অবস্থানরত পর্যটকরাও বিপাকে।

হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলছে। ফলে রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শহরের একমাত্র সিএনজি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে, আর শপিংমলগুলোও কার্যত অচল।

এর আগে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোটাবিরোধী ঐক্যজোট এ হরতালের ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী ইব্রাহিম রুবেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতা রাকিব হাসান, শিক্ষার্থী নুরুল আলম, রুবেল হোসেন, রেজাউল করিম রাজু ও ইমাম হোসাইনসহ অন্যান্য নেতারা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেলা পরিষদ সরকার নির্ধারিত ৭ শতাংশ কোটা না মেনে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হবে বলে দাবি তাদের। তারা বলেন, “মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়েই হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে হয়েছে। কোটা প্রথার নামে বৈষম্য এবং মেধা হত্যার সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।”

হরতাল চলাকালীন ২০ ও ২১ নভেম্বর জেলার সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জরুরি সেবার যানবাহন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে আগামীকাল ২১ নভেম্বর (শুক্রবার) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।