সারাদেশ
‘এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে রুমিন ফারহানা
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার হেনস্তার শিকার হয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি রুমিন না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার। মাথায় রাখবেন। যাদের কথায় এখন আপনারা চলছেন, শেখ হাসিনার সময় তারা কানে ধরে খাটের নিচে থাকত। আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না।”
তার এই বক্তব্যকে অনেকেই সরকারি কর্মকর্তার প্রতি প্রকাশ্য হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামবাদ (গোগদ) এলাকায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কথা বলতে গেলে রুমিন ফারহানা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি শেষবারের মতো আপনাকে সতর্ক করছি। এ ধরনের কথা আমি আর শুনতে চাই না। আপনি পারলে থামিয়ে দেন। আজ ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, পরে তা করব না।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “অন্যরা আপনাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, খোঁজ নিয়ে দেখেন।”
হেনস্তার শিকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধির ১৮ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে সেখানে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সমাবেশের আয়োজক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও জানান, “সমাবেশ করতে না পেরে তারা চলে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পুরো বিষয়টি আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছি।”
এ ঘটনায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সচেতন মহল ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন আচরণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।