সারাদেশ

বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় ট্যাংক থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে আট শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। তদন্তে মালিকপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত এক শ্রমিককে দেখতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। এরই মধ্যে মালিকপক্ষ নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে মালিকপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও কাজ করছে।

এ সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে একে একে আট শ্রমিক মারা যান। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় জানা গেছে।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর সানী জলদাশ (২২), পলাশ জলদাশ (২৭), মুনছুর আলী (৪০), নাসির উদ্দিন (৩৮), জামালপুরের হাবীবুর রহমান, গাইবান্ধার খোকন এবং আব্দুল আমীল রানা।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন।

ইয়ার্ড মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে সরকারি বিধি অনুযায়ী সহায়তার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।