সারাদেশ
শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা না দেয়ায় খুন করা হয় কারখানা কর্মকর্তাকে: পিবিআই
গাজীপুরে একটি ফিড কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে হত্যা করার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের বয়স ২১ ও অপরজনের ১৯ বছর।
পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ জুলাই গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে রফিকুল ইসলামের বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল থেকে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় তার ছেলে কয়েকজন সহকর্মীকে বাসায় পাঠায়। দুপুরে তারা গিয়ে দেখেন, বাসার দরজায় তালা ঝুলছে। পরে বাড়ির মালিকের সহযোগিতায় তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে খাটের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। সেইসঙ্গে আলমারির ড্রয়ার খোলা এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনার পর কোনাবাড়ী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পরে তদন্তের জন্য পিবিআই গাজীপুর জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সনজিৎ বিশ্বাস প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন নয়ন ও আল আমিনকে ২১ জুলাই রাতে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কুনিয়া মোতালেব মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারের পর পিবিআই জানায়, নিহত রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দুই আসামির পূর্ব পরিচয় ছিল। তারা জানায়, রফিকুল তাদেরকে সমকামিতার উদ্দেশ্যে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বাসায় ডেকে আনেন। কিন্তু পরে টাকা না দিয়ে উল্টো মোবাইলে ধারণকৃত ঘনিষ্ঠ ভিডিও দেখিয়ে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা রফিকুলকে গলা ও উরুতে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং বাসা থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, "এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।"