সারাদেশ
ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানো সেই মুন্নু শেখকে সম্মাননা
রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত গড়া চটপটি বিক্রেতা মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন তার কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে এই সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তার নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মুন্নু শেখ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন চটপটি বিক্রেতা হলেও প্রতিদিন দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ‘নকশিকাঁথা’ মেইল ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই দোকান বন্ধ করে প্ল্যাটফর্মে চলে আসেন পানি নিয়ে।
ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি যাত্রীদের হাতে তুলে দেন টিউবওয়েলের ঠান্ডা পানির বোতল। বিনিময়ে কোনো অর্থ নয়, তিনি চান শুধু দোয়া ও ভালোবাসা।
তার এই মানবিক কাজের পেছনে রয়েছে হৃদয়বিদারক এক গল্প। ২০১৮ সালে তার ১০ বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে করে খুলনা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হতো তাকে। কিন্তু অনেক সময় অসুস্থ সন্তানের জন্য এক বোতল পানি কেনার মতো সামর্থ্যও ছিল না তার।
দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২০ সালে ক্যানসারের কাছে হার মানে তার ছেলে। সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও মুন্নু শেখ সিদ্ধান্ত নেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন কোনো তৃষ্ণার্ত যাত্রীকে পানি ছাড়া ফিরতে দেবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই গত চার বছর ধরে তিনি এই সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তিনি কোনো স্বার্থ ছাড়া মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে মুন্নু শেখ আরও ভালোভাবে তার এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।