সারাদেশ
জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’র ৭ দিন পরও স্ত্রীর বায়োডাটায় লেখা ‘অবিবাহিত’
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর তিনি দাবি করেন, সেখানে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে এই দাবির পর সামনে আসা কিছু তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশিত একটি বায়োডাটা অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম ২২ জুন তারিখে তাতে স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরের ওপর সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লেখা রয়েছে। অথচ তিনি দাবি করেছেন, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সেই হিসাবে বিয়ের পাঁচ দিন পরও বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বিয়ের একটি কাবিননামার কপিও সামনে এসেছে, যেখানে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য রয়েছে। এতে সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন ও বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিও প্রকাশের পর এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক বার্তায় জানান, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অন্যদিকে, মরিয়ম খাতুন নিজেও দাবি করেছেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার স্বামী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে তার স্বামীর সম্মানহানি করার চেষ্টা চলছে।
মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহ জানান, ১৭ জুন দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং ওই অনুষ্ঠানে এমপির প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের কার্যালয়ে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজনকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করেন। এ সময় এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরে আরও টাকা দাবি করা হয় বলে তিনি জানান।
তার অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে ওবায়দুল্লাহ গোপনে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে বিয়ের দাবি, কাবিননামা এবং বিয়ের পরের বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকার বিষয়টি ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।