সারাদেশ
সুন্দরবনে বনদস্যু মজনু বাহিনীর তাণ্ডব, মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ জেলে
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে মাছ ধরার সময় বনদস্যু মজনু বাহিনীর সদস্যদের হাতে নৌকাসহ চার জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। মুক্তিপণের দাবিতে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনের নারিকেলবাড়িয়া, কালামেয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় পৃথকভাবে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন শরণখোলা রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া ও কালামেয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের বহরে হামলা চালায় মজনু বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা মুক্তিপণের দাবিতে তিন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একই রাতে আমবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মাছ ধরার নৌকা, মোবাইল ফোনসহ আরও এক জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যুরা।
অপহৃত চার জেলের সবার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী গ্রামে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রিপন (২৬) ও ফরিদ (৩০) নামে দুই জেলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুই জেলের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মজনু বাহিনীর সদস্যরা শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে নারিকেলবাড়িয়া ও কালামেয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তিন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে।
তিনি আরও জানান, একই রাতে বনদস্যুদের সদস্যরা আমবাড়িয়া এলাকা থেকে একটি নৌকা, মোবাইল ফোনসহ আরও এক জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের দিকে নিয়ে যায়। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এক রাতেই চার জেলে অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনের আশপাশের জেলেপল্লীগুলোতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা বনদস্যুদের নতুন করে তৎপরতা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে মৎস্য ব্যবসায়ীরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।