সারাদেশ

হিমছড়ি সৈকতে চবির আরও এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০২:২৯ পিএম

হিমছড়ি সৈকতে চবির আরও এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর বুধবার (৯ জুলাই) সকালে সমিতিপাড়ার সৈকত এলাকায় ভেসে ওঠে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদের মরদেহ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও একই বিভাগের শিক্ষক সাঈদ বিন কামাল চৌধুরী।

গত সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী—কে এম সাদমান রহমান সাবাব, অরিত্র হাসান ও আসিফ আহমেদ কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই সহপাঠী—ফারহান ও রিয়াদ। এদের মধ্যে গতকাল (মঙ্গলবার) সাবাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ সকালে পাওয়া গেল আসিফের মরদেহ। তবে এখনো খোঁজ মেলেনি অরিত্র হাসানের।

উদ্ধার হওয়া সাবাবের বাড়ি ঢাকার মিরপুরে। মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে আসিফ আহমেদ ও নিখোঁজ অরিত্র হাসান দুজনই বগুড়ার বাসিন্দা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হলে থাকতেন এই তিন শিক্ষার্থী। বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে তাঁরা গত সোমবার রাতে হিমছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখানেই রাত যাপন করেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে হিমছড়ি জাদুঘরের পাশের বিচে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোসলে নামেন তাঁরা।

সহপাঠী ফারহান বলেন, “আসলে আমাদের কেউই গোসল করতে চাচ্ছিল না। কিন্তু সাবাব হঠাৎ করেই সমুদ্রে নেমে পড়ে। ওকে দেখে আসিফ ও অরিত্রও চলে যায় পানিতে। তখনো ঢেউ তেমন ছিল না, কিন্তু কিছুক্ষণ পর বড় বড় ঢেউ আসতে শুরু করে। ওরা চেষ্টা করেছিল উঠে আসতে, কিন্তু পারেনি।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সাঈদ বিন কামাল চৌধুরী বলেন, “গতকাল সাবাবের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে আসিফের মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে এখনো অরিত্র হাসান নিখোঁজ রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁর সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”

এ ঘটনায় চবি ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিখোঁজ অরিত্রের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।