সারাদেশ
দিনাজপুরে রেলপথ ও সড়ক অবরোধ, ঢাকাগামী ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ
দিনাজপুরে সাত দফা দাবিতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তারা দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কেও বাঁশ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন।
রেলপথ অবরোধের কারণে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা ও রাজশাহীগামী দুটি ট্রেন আটকা পড়ে। এতে প্রায় দুই হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাশাপাশি সড়ক অবরোধের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। মোহাম্মদ সিফাত বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছি। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা পুনরায় রাস্তায় নেমেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি পূরণ হবে না, আন্দোলন চলবে।”
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোতে অন্তর্ভুক্ত—
- উপসহকারী প্রকৌশলীর পদ কেবল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য রাখা,
- ৫০ শতাংশ পদোন্নতির ব্যবস্থা,
- ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ,
- টেকনিক্যাল ক্যাডার থেকে অন্যত্র স্থানান্তর বন্ধ,
- বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অনুপাত ১.৫ নির্ধারণ,
- ল্যাব ও ওয়ার্কশপ আধুনিকীকরণ, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও উপকরণ সরবরাহ,
- ক্রেডিট ট্রান্সফার চালু ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দীর্ঘদিনের বিষয় একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। দ্রুত অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য বলেছি, কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোনো কথা শোনছেন না।”
দিনাজপুর রেলস্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট জিয়াউর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতযান এক্সপ্রেস (সকাল ১০:৫৫) ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (বেলা ১১:৪৫) দিনাজপুর স্টেশন প্ল্যাটফর্মে আটকে আছে।
সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে শহরের বিভিন্ন গলিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রায় দুই হাজার ট্রেন যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকা রয়েছেন।