সারাদেশ

ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে তেঁতুলিয়া, কনকনে শীতে কাঁপছে মানুষ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম

ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে তেঁতুলিয়া, কনকনে শীতে কাঁপছে মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জেঁকে বসেছে শীতের কনকনানি। দিনের বেলায়ও ঘন কুয়াশা কাটছে না, ফলে সূর্যের দেখা মিলছে খুব কমই। তার সঙ্গে হিমেল বাতাসের দাপট শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শীতের কামড় যেন প্রতিদিনই একটু করে তীব্র হচ্ছে এই এলাকায়।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭৯ শতাংশ, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেশি তীব্র লাগে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের মতে, সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে তেঁতুলিয়ায় শীত অনুভূত হলেও কয়েক বছর ধরে শীত আগেভাগেই নেমে আসছে।

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে দিনের শুরুতেই জীবিকার প্রয়োজনে কাজে বের হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষরা। চা–বাগান, কয়লা–খনি, নদীঘাটসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে সকাল থেকে শ্রমিকদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। ভ্যানচালক ও রিকশাচালকদের ভাষ্য—রোদ না থাকায় সকালে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, তবে স্বল্প সময়ের রোদ মিললে কিছুটা স্বস্তি মিলছে।

তেঁতুলিয়ায় শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগও বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, সর্দি–কাশি ও হাঁপানির প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে শীত স্বাভাবিকভাবেই আগে নামে। তিনি বলেন, আজ ভোর ৬টা এবং সকাল ৯টা উভয় সময়েই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রির নিচে নামেনি।

এদিকে আবহাওয়া কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শীতপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা, উষ্ণ পোশাক ব্যবহার এবং শিশু-বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।