সারাদেশ

দুদকের তদন্তাধীন দুর্নীতির অভিযুক্ত কর্মকর্তা পেলেন বিমানের বড় পদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

দুদকের তদন্তাধীন দুর্নীতির অভিযুক্ত কর্মকর্তা পেলেন বিমানের বড় পদ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনার ঘটনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। তিনি দাবি করেন, মামলায় তার বিরুদ্ধে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো তার বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

এর মাঝেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাকে প্রশাসন, মানবসম্পদ ও অর্থ বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে অর্থ ও হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়। পরদিন তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও তার ওপর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চপদ।

বিমানের কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া তাদের বিস্মিত করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী পক্ষের তদবিরেই মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিচালকের নামও আলোচনায় এসেছে, যিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এবং এক ভাইও বিমানে চাকরি করেছেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মিজানুর রশীদ। তিনি বলেছেন, বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দুদকও তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

তবে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, মিজানুর রশীদের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনও চলমান এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার তথ্য চেয়ে ছিল। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।