সারাদেশ

মির্জাপুরে একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা পরিচালক আটক


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ পিএম

মির্জাপুরে একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা পরিচালক আটক
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আবাসিক মাদরাসার একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে ইব্রাহিম খান রিয়াদ নামে এক মাদরাসা পরিচালককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটকের আগে স্থানীয় লোকজনের মারধরের শিকার হন ওই পরিচালক।

গত শনিবার সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলা সদরের শ্রীহরিপাড়া এলাকায় অবস্থিত আজিজুল কোরআন মডেল মাদরাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজুল কোরআন মডেল মাদরাসার আবাসিক বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়জন ছাত্রকে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার করার অভিযোগ উঠেছে পরিচালক ইব্রাহিম খান রিয়াদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি আবাসিক বিভাগের এক ছাত্র ছুটিতে বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে ওই ছাত্রের অভিভাবকেরা বিষয়টি মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান সানু এবং ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য জিয়ারত হোসেনকে অবহিত করেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার বিকেলে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত পরিচালক ইব্রাহিম খান রিয়াদকে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান সানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এক ছাত্র তার পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানোর পর অভিভাবকেরা তাদের অবহিত করেন। পরে এ বিষয়ে মাদরাসায় বৈঠকের আয়োজন করা হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইব্রাহিম খান রিয়াদকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।