সারাদেশ

সৎ মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ শিশু, মায়ের কবরের পাশে কান্নার ভিডিও ভাইরাল


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

সৎ মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ শিশু, মায়ের কবরের পাশে কান্নার ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক এতিম শিশুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের কবরের পাশে শিশুটির হৃদয়বিদারক কান্নার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্ত সৎ মাকে সতর্ক করে মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় সৎ মা আয়েশা আক্তার ও ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার অঙ্গীকার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমাই উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছামিয়ার মা প্রায় চার বছর আগে মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শিশুটিকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি সম্প্রতি তাকে টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি বাবাকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তার মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বলতে থাকে, “আম্মু গো, আমাকে নিয়ে যাও। কেন রেখে গেলে?”—যা নেটিজেনদের মধ্যে গভীর আবেগ ও সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইউএনও বলেন, “শিশুটির সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করেছে। ঘটনাস্থলে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে সচেতন মহল শিশুটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।