সারাদেশ
বগুড়ায় ট্রেনের নিচে শুয়ে ব্যর্থ, লাফ দিয়েও প্রাণে রক্ষা পারুলের
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে মেহেরুন নেছা পারুল (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে ঢাকা ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে।
আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দুই পা ভেঙে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে তিনি প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরুন নেছা পারুল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দীঘির ডাঙ্গাপাড়ার মৃত ছাবের আহম্মেদ ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার রুদ্রবালা গ্রামের রাকিব মোল্লার তৃতীয় স্ত্রী। পারুলের এর আগেও দুটি বিয়ে হয়। একপক্ষে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। প্রেমের তৃতীয় বিয়ের পর পারুল তার স্বামী রাকিব মোল্লার সঙ্গে ঢাকার কল্যাণপুর এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘরেও তার দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। রাকিব মোল্লা স্ত্রী পারুলকে বাবার বাড়িতে রেখে যাওয়ার জন্য রোববার রাতে ট্রেনে সান্তাহারে আসেন। সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রাকিব অন্য ট্রেনে ঢাকার দিকে চলে যান।
এদিকে মেহেরুন নেছা পারুল রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ২নং প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ ও রেলের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে যেতে চাইলে সবাই তাকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেন। ট্রেনটি সান্তাহারের অদূরে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে পৌঁছলে পারুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বগির দরজার কাছে যান। এরপর তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার এসআই ফজলুর রহমান জানান, চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় গৃহবধূ পারুলের দুই পা ভেঙে গেছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এদিকে বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মেহেরুন নেছা পারুল বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মা এসেছেন। তাকে তার কাছে হস্তান্তর ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।