সারাদেশ

জয়পুরহাটে ঘরের ভেতর ৭ ফুট গভীর গর্তে বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার অভিযোগ 


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ এএম

জয়পুরহাটে ঘরের ভেতর ৭ ফুট গভীর গর্তে বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার অভিযোগ 
ছবিঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পঙ্গু ও অসহায় এক বাবাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের ভেতর গোপনে প্রায় ৫ ফুট প্রস্থ ও ৭ ফুট গভীর গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত মামলা হয়নি। অভিযুক্তের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, বানিয়াচাপড় গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৪৮) পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। এরপর থেকে তিনি কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে শয্যাশায়ী জীবন কাটাচ্ছেন।

সংসারের দায়িত্ব নিতে বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ফুচকা বিক্রির কাজ শুরু করেন। এদিকে আব্দুস সালাম বাড়িতে বড় ছেলে মোস্তাকিমের তত্ত্বাবধানে থাকতেন।

পরিবারের অভিযোগ, মোস্তাকিম মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পর বাবার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই বাবাকে মারধর, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিতেন।

আব্দুস সালামের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে ছেলের আচরণ সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। বুধবার তিনি চাচাতো ভাই রাজুকে ডেকে ঘর খুলে দেখতে বলেন। ঘরের ভেতরে গিয়ে তারা প্রায় ৫ ফুট চওড়া ও ৭ ফুট গভীর একটি গর্ত দেখতে পান। পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন স্থানে মাটিভর্তি বস্তা ও কাদার স্তূপও দেখতে পান। এরপরই আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গর্তটি খোঁড়া হয়েছে।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মোস্তাকিমকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে তার মা ও বড় বোন থানায় অভিযোগ করার আশ্বাস দিয়ে তাকে নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

প্রত্যক্ষদর্শী রাজু আহমেদ বলেন, তাদের ধারণা, পঙ্গু বাবাকে ঘরের ভেতর মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম বলেন, তার ভাই মাদকাসক্ত হলেও বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে।

এদিকে আব্দুস সালাম নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহ. আব্দুল করিম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা মৌখিকভাবে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।