সারাদেশ

৫ বছরেও শেষ ঠিকানা মেলেনি ভারতীয় নাগরিকের, হিমঘরে সংরক্ষিত মরদেহ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

৫ বছরেও শেষ ঠিকানা মেলেনি ভারতীয় নাগরিকের, হিমঘরে সংরক্ষিত মরদেহ
ছবিঃ সংগৃহীত

পরিবার, পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট—সবই আছে। তবুও প্রায় পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ। আইনি জটিলতা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া এবং পরিবারের অনাগ্রহের কারণে এখনো শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা প্রবীর মণ্ডল ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর মারা যান। এরপর থেকে তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার নথি অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রামে যান প্রবীর। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।

পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পাসপোর্টে দেখা যায়, তিনি ২০১৭ সালে তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০১৮ সালে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে যান। তবে পরবর্তীতে তিনি কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, সে বিষয়ে নথিতে কোনো তথ্য নেই।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একটি মেডিকেল লিগ্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর থেকেই মরদেহটি হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানায়, মরদেহে পচন শুরু হয়েছিল এবং বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে প্রায় পাঁচ বছরেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রবীর মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছিল। পুলিশের অনুরোধে মরদেহটি সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং নির্দেশনা পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মরদেহ হস্তান্তর বা দাফন-সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, এত দীর্ঘ সময় একটি মরদেহ হিমঘরে পড়ে থাকা মানবিক ও মানবাধিকার—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই উদ্বেগজনক। তার মতে, রাষ্ট্রের উচিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহের সৎকার নিশ্চিত করা।

রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, মৃত্যুর সময় করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সীমান্তে কড়াকড়ি থাকায় মরদেহ হস্তান্তর সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিবারের অনাগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মরদেহের সৎকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।