সারাদেশ
ঠাকুরগাঁওয়ে অপহরণ করে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও বাবার আত্মহত্যা, গ্রেপ্তার ১
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, তার বাবাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল শনিবার (০৮ আগস্ট) সাভার থেকে র্যাব-১৩ ও র্যাব-৪-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মহিষমারী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে বেশ কিছুদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন সাইফুল। একপর্যায়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুন ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের সড়ক থেকে কয়েকজন তাকে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডের কাছাকাছি একটি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে কৌশলে আসামিদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে বাবা-মাকে বিষয়টি জানান ওই ছাত্রী। এরপর মেয়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে তার বাবা আবুল কাসেম (৪২) সাইফুলের বাড়িতে যান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আসামিরা উল্টো আবুল কাসেমকে হুমকি দেন। তারা দাবি করেন, মেয়েটির স্বাক্ষর ব্যবহার করে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আবুল কাসেমকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর গত ২ জুলাই বিকেলে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আবুল কাসেমের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ সময় সাইফুল লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে দেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
মেয়ের ওপর নির্যাতন, নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং আসামিদের ধারাবাহিক প্রাণনাশের হুমকিতে আবুল কাসেম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে গত ৫ জুলাই দুপুরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার পর প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩ ও র্যাব-৪-এর যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে শনিবার সাভার থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।