সারাদেশ

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত বেড়ে ৩৪, ১৯ হাজার গবাদিপশুকে টিকা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত বেড়ে ৩৪, ১৯ হাজার গবাদিপশুকে টিকা
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরও তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তারা চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। এ নিয়ে উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

নতুন করে আক্রান্ত তিনজন হলেন-উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩৫), মৃত ছরিতুল্লাহর ছেলে আনছার আলী (৬৪) এবং আমির উদ্দীনের ছেলে জবেদ আলী (৪৫)। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান জানান, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩৪ জন রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের ৩ জন, পূর্ব বাছোহাটি গ্রামের ২৬ জন, রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের ৩ জন, দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের ১ জন এবং সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের ১ জন রয়েছেন। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে এ রোগ ভালো হয়। তবে রোগের বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এদিকে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার রোধে গবাদিপশুর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। আক্রান্ত পশু জবাই করা বা তার মাংস বিক্রি না করা, অসুস্থ কিংবা মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং পশুর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ২০ হাজার গবাদিপশুর ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এসব ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। এসব পশুকে অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স সাধারণত আক্রান্ত পশু কিংবা পশুর শরীরের বিভিন্ন অংশের সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। তাই অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশু জবাই করা, মাংস কাটা বা বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পশুর কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন।